
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে ৯৮টি অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই হুবহু বিল আকারে সংসদে তোলার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। একই সঙ্গে ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে এবং ২০টি অধ্যাদেশ এখনই আইনে রূপ না দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ-এর অধিবেশনে বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০টি অধ্যাদেশের মধ্যে চারটি সরাসরি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হলো— জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ-২০২৪, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬।
এছাড়া ১৬টি অধ্যাদেশ পরবর্তীতে অধিকতর যাচাই-বাছাই করে শক্তিশালী নতুন আইন হিসেবে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গণভোট, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন, রাজস্ব নীতি, আয়কর, কাস্টমস ও তথ্য অধিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ উল্লেখযোগ্য। এসবের বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই বিরোধী দল ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল আকারে সংসদে তোলা যেতে পারে। এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, শ্রম আইন, পুলিশ কমিশন, মানব পাচার প্রতিরোধ এবং ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ রয়েছে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের সংশোধনী আনা হবে, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ পুনরায় বসার পর ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে অধ্যাদেশের কার্যকারিতা লোপ পায়। সে হিসেবে আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে অনুমোদন না পাওয়া অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
এই প্রেক্ষাপটে বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না হলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অধ্যাদেশ অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।