
ডারউইনে বাংলাদেশের পেসারদের দাপটে প্রথম ইনিংসে দুইশ রানের আগেই অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদ একাই শিকার করেছেন ৬ উইকেট। তাঁর সঙ্গে ইবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম টেস্টের শুরুতেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
ইনিংসের শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করেন বাংলাদেশের পেসাররা। ট্রাভিস হেড ও জ্যাক ওয়েদারল্ড শুরুতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা।
দলীয় ৪৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদের ফুলার লেন্থের বলে ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের ক্যাচ হন ৩৭ বলে ২৩ রান করা ওয়েদারল্ড। এরপর হাসানের বলেই ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন হেড। ৫২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
ইবাদত হোসেনের বলে মার্নাস লাবুশেনকে মাত্র ১ রানে সাজঘরে ফেরান নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর তাসকিন আহমেদের বলে ১৩ রান করা ক্যামেরন গ্রিনকে দারুণ ক্যাচে ফেরান মুশফিকুর রহিম। ৭৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
এরপর স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি মিলে ৫৫ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা সামলে নেন। তবে ইবাদতের বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন ক্যারি। এরপর তাসকিনের দুর্দান্ত ইনসুইংয়ে বোল্ড হন বিউ ওয়েবস্টার। ১৫২ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করতে থাকা স্মিথ ৭৬ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তবে এরপরও বাংলাদেশের বোলারদের চাপ থেকে বের হতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদের বলে লিটন দাসের ক্যাচ হয়ে ফেরেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। এরপর মাত্র ১ রান করে হাসানের শিকার হন মিচেল স্টার্ক।
চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় ৪৮ ওভারে ১৮৩ রানে ৮ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
বিরতির পরও বাংলাদেশের দাপট অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত হাসান মাহমুদের বলেই টপ এজ হয়ে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত হন স্টিভেন স্মিথ। ১০৯ বলে ৭১ রান করেন তিনি।
এরপর নাথান লায়নকে ৭ রানে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ইতি টানেন হাসান মাহমুদ। ফলে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেন এই বাংলাদেশি পেসার।
বাংলাদেশের পেসারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।