
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও জনবান্ধব ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সৎ ও দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্যরা পুরস্কৃত হবেন, আর অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা সনদ ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘যারা সততা, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের কর্মের যথাযথ স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে। অন্যদিকে, যারা আইন-বিধি লঙ্ঘন করে জনসেবায় ব্যাঘাত ঘটাবেন বা অপকর্মে লিপ্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি তিরস্কারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একটি সেবাধর্মী ও জনবান্ধব সংগঠনে পরিণত করতেই এ নীতি অনুসরণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে উদ্ধার হওয়া ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো বিশেষ ধর্মীয় উৎসব বা রথযাত্রাকে লক্ষ্য করে রাখা হয়েছিল—এমন ধারণার ভিত্তি নেই। তার ভাষায়, ঘটনাটি কাকতালীয়। তিনি জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দ্রুত সেটি নিষ্ক্রিয় করেছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ও নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দায়িত্ব পালনকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি যে সাংবিধানিক সুরক্ষা ভোগ করেন, তা বহাল থাকবে। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী তাকে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) এবং পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।
এ বছরের পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান অনুষ্ঠান না হওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে প্রস্তুত করা তালিকায় কিছু কারিগরি ত্রুটি ও অনিয়ম ধরা পড়েছে। এজন্য তালিকাটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে যোগ্য পুলিশ সদস্যদের বিশুদ্ধ তালিকার ভিত্তিতে দ্রুত পদক প্রদান করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সাহসিকতা ও কৃতিত্বপূর্ণ দুটি পৃথক ঘটনার জন্য মোট নয়জন পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ঢাকা রেলওয়ে থানার যৌথ উদ্যোগে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে এক প্রবাসীর হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধার করায় সাতজন পুলিশ সদস্য পুরস্কৃত হন। এছাড়া সাহসিকতার সঙ্গে ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের স্বীকৃতি হিসেবে ডিএমপির ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের দুইজন সার্জেন্টকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।