
দেশের আকাশপথে সেবার মানকে বৈশ্বিক উচ্চতায় নিয়ে যেতে বড়সড় এক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ বিমানের বহরকে ‘আন্তর্জাতিক মানের’ করে তুলতে মার্কিন বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি বড় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বহরে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির উড়োজাহাজ যুক্ত করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বিমান বহরে আধুনিকায়ন ও নতুন চুক্তি
সোমবার (৪ মে) জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বর্তমানে বিমানের বহরে আন্তর্জাতিক রুটের উড়োজাহাজ থাকলেও সেগুলো কাঙ্ক্ষিত মানের নয় বলে মনে করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই ১৪টি বোয়িংয়ের জন্য সাইন করেছি। আমাদের বিমান বহরটি একদম আন্তর্জাতিক মানের হলেও, আন্তর্জাতিক বিমান আছে ঠিকই কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের নয়। সেই মান সম্পন্ন করার জন্য আমরা ইতিমধ্যেই ১৪টি বোয়িং ক্রয়ের স্বাক্ষর করেছি এবং আরও কিছু বিমান আমরা লিজ করব।’
তিনি আরও জানান, বিমান বহরের এই আধুনিকায়ন যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধিতে আমূল পরিবর্তন আনবে।
অব্যবহৃত বিমানবন্দর ও অভ্যন্তরীণ রুট
প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলোকে সংস্কার করে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মূলত অভ্যন্তরীণ রুটে যাতায়াত আরও সহজতর করতেই এই পরিকল্পনা। ডিসি সম্মেলনে বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসকদের এসব বিমানবন্দর উন্নয়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও সমন্বয়
অধিবেশনে পর্যটন খাতের প্রসারে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে কক্সবাজার ও কুয়াকাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোর অবকাঠামোগত মানোন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কীভাবে কাজ করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘বিমান পর্যটন নিয়ে কথা বলেছি। আমাদের অনেক জেলায় বিমানবন্দর রয়েছে, সেগুলোকে কীভাবে অ্যাড্রেস করবেন, সে সম্বন্ধে তাদের বলা হয়েছে এবং সেগুলো উন্নত করার জন্য তাদেরও আমরা নির্দেশনা দিয়েছি এবং আমরা কী কী কাজ করছি, সেগুলো তাদের অবহিত করেছি।’
তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন
দেশের প্রধান প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে সুসংবাদ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৬ ডিসেম্বর এই টার্মিনালটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এটি চালু হলে দেশের এভিয়েশন খাতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে।
সব মিলিয়ে বিমানের বহরে নতুন বোয়িং যুক্ত হওয়া এবং অবকাঠামো উন্নয়নের এই মহাকর্মযজ্ঞ বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী রিজিওনাল এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।