
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে দেশের যোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের রোডম্যাপ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় আগামীতে তিনটি প্রধান মেগা প্রজেক্ট নির্মাণ করা হবে—
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু:
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া প্রান্তে নির্মাণ হবে দেশের দ্বিতীয় পদ্মা সেতু।
প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.৯ কিমি।
এটি পাটুরিয়া ও গোয়ালন্দকে সংযুক্ত করবে এবং জাতীয় মহাসড়ক এন৫ ও এন৭-এর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে।
নির্মাণের লক্ষ্য ২০৩২ সালের মধ্যে সম্পন্ন করা।
সেতুটি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দূরত্ব কমাবে এবং বেনাপোল, দর্শনা, মোংলা বন্দরগুলোতে পণ্য পরিবহন সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।
প্রাইমারি স্টাডি বর্তমানে নতুনভাবে শুরু হয়েছে; চূড়ান্ত রুট এবং স্থান স্টাডি শেষে নির্ধারণ করা হবে।
দ্বিতীয় যমুনা সেতু:
বর্তমান যমুনা সেতুর চার লেন হওয়ায় সংযোগ সড়কের ছয় লেনের সঙ্গে যানবাহনের চাপ বেড়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
২০৩৩ সালের মধ্যে নতুন বিকল্প সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্ভাব্য তিনটি রুট যাচাই হচ্ছে: বগুড়া থেকে জামালপুর করিডোর, গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ঘাট অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত রুট।
সেতুর দৈর্ঘ্য, ব্যয় এবং রুট চূড়ান্ত স্টাডির পরে নির্ধারণ হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে:
দেশের প্রধান অর্থনৈতিক সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে।
ভবিষ্যতের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত পণ্য ও আমদানি-রপ্তানি মালামাল পরিবহনে এই এক্সপ্রেসওয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিদ্যমান সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি একটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে।
এক্সপ্রেসওয়েটি দেশের পূর্ব-পশ্চিম সংযোগের জন্য ‘আউটার রিং সার্কুলার’-এর মাধ্যমে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে।
সেতু বিভাগের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্প মিলিয়ে মোট ৫৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে নতুন মেগা প্রজেক্টগুলোর জন্য ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করা হয়েছে।