
পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক ইমরান খানের মুক্তির দাবি জানিয়ে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি লিখেছেন বিভিন্ন দেশের ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক।
ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ইমরান খান। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে করা একাধিক মামলায় ১০, ১৪ ও ১৭ বছরের সাজা হয়।
বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের একটি নিভৃত কুঠুরিতে বন্দি রয়েছেন ইমরান। তার স্বাস্থ্য, বিশেষ করে চোখের অবস্থা এবং নীরবতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে তাকে নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক একযোগে শাহবাজ শরিফকে চিঠিটি পাঠিয়েছেন। এর পেছনে রয়েছে ইমরান খানের বিষয়ে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে তাদের অসন্তোষ।
চিঠিতে তারা উল্লেখ করেছেন, আদালত ইমরান খানকে একটি মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছিল। ওই বোর্ডে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং তার বোন ডা. উজমা খানের থাকার কথা ছিল। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের প্রতি সপ্তাহে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশনাও ছিল।
সাবেক অধিনায়করা চিঠিতে তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন।
প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গঠিত পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল বোর্ডকে স্বাধীনভাবে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি যথাযথভাবে পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎ যেন কোনো প্রশাসনিক জটিলতা বা বিলম্ব ছাড়াই নিশ্চিত করা হয়।
তৃতীয়ত, মেডিক্যাল বোর্ডের পক্ষ থেকে যে চিকিৎসার সুপারিশ করা হবে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
গত ছয় মাসে সাবেক অধিনায়কদের পক্ষ থেকে এটি ইমরান খানকে নিয়ে দ্বিতীয় চিঠি। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে একই বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক চিঠি লিখেছিলেন।
চিঠিতে তারা লিখেছেন, ‘রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, ক্রিকেট মাঠে গড়ে ওঠা সম্পর্কের জায়গা থেকে, সাবেক সহখেলোয়াড় ও প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এই আবেদন।’ একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করেছেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়।