
সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার ও পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা গভীর করতে ওমান উপসাগর ও ভারত মহাসাগরে যৌথ নৌমহড়া চালিয়েছে ইরান ও রাশিয়া। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসলামি রিপাবলিক নিউজ (আইআরএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
আইআরএনএ জানায়, বৃহস্পতিবার রুশ নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ক্যারিয়ারকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে মহড়ার সমাপ্তি ঘটে। সামুদ্রিক কূটনীতি শক্তিশালী করা, সামরিক মিথস্ক্রিয়া বাড়ানো এবং আভিযানিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে এই মহড়া পরিচালিত হয়।
উভয় দেশের সামরিক কর্মকর্তারা সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানে যৌথ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এমন এক সময় এই মহড়া অনুষ্ঠিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র আরব সাগরে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রবাহী নৌবহরের উপস্থিতি জোরদার করেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকিও দিয়েছে।
মহড়া শেষ হওয়ার আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। আইআরএনএ’র তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি’ বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের ফলাফল তুলে ধরেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ইরান জাতিসংঘকে চিঠি দিয়ে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের সামরিক হুমকি বাস্তবায়ন করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ইরানের রাষ্ট্রদূত মাসুদ সাইদ ইরাভানি এ সতর্কবার্তা দেন।
চিঠিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট উদ্ধৃত করা হয়। বুধবার দেওয়া ওই পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইরান চুক্তিতে না এলে যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপসহ যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে পারে।
ইরাভানি তাঁর চিঠিতে বলেন, এ ধরনের যুদ্ধংদেহী বক্তব্য সামরিক আগ্রাসনের বাস্তব ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে, যা অঞ্চলটির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করবে।