
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার এবং চাকরি ও আর্থিক সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে চাকরিপ্রার্থী, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও মসজিদ কমিটির সদস্যসহ সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
শনিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নামে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছড়ানো হচ্ছে। এসব বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, জামানতসহ বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ চাওয়া হচ্ছে।
একইভাবে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সরকারি বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সম্মানী, অনুদান, অর্থ সহায়তা কিংবা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর, ব্যাংক হিসাব, বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ কেবল নির্ধারিত সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর, ব্যাংক হিসাব, বিকাশ, নগদ বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক মাধ্যমে অর্থ দিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে চাকরি, সম্মানী, অনুদান কিংবা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নেই।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, প্রতারকচক্র বিশেষ করে আলেম-ওলামা, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, মসজিদ কমিটির সদস্য ও চাকরিপ্রত্যাশীদের বিভ্রান্ত করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য অনেক ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম, পদবি, ছবি, স্বাক্ষর ও প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামও ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ভুয়া চিঠি, নিয়োগপত্র, আবেদন ফরম ও অর্থ সহায়তার তালিকা তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ডকে বেআইনি ও প্রতারণামূলক উল্লেখ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করারও চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যাচাইয়ের আহ্বান
ইসলামিক ফাউন্ডেশনে নিয়োগসংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে প্রার্থীদের স্মারক নম্বর, প্রকাশের তারিখ, পদের নাম, আবেদন পদ্ধতি, আবেদনের শেষ সময় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছে।
কেউ ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা মেসেজের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে অর্থ চাইলে তাতে সাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে কাউকে টাকা না দেওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।
ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সতর্কতা
মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং মসজিদ কমিটির সদস্যদের বিশেষভাবে সতর্ক করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বলেছে, ইফার পরিচয়ে কেউ ফোন, মেসেজ বা সরাসরি যোগাযোগ করে সরকারি সম্মানী, অনুদান, অর্থ সহায়তা, তালিকাভুক্তি কিংবা অন্য কোনো সুবিধা দেওয়ার কথা বলে আগাম অর্থ বা রেজিস্ট্রেশন ফি চাইলে তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। একই সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত অনলাইন গ্রুপে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন, ওটিপি, পাসওয়ার্ড কিংবা অন্য কোনো গোপনীয় তথ্য না দেওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।
প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা চালানো ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
কেউ প্রতারণার শিকার হলে কিংবা ভুয়া বিজ্ঞপ্তি, পোস্ট, ফোন নম্বর, চিঠি, নিয়োগপত্র বা অর্থ লেনদেনের প্রস্তাব পেলে সংশ্লিষ্ট তথ্য, স্ক্রিনশট, ফোন নম্বর, লেনদেনের বিবরণ ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত নিয়োগ, অর্থ সহায়তা বা অনুদানসংক্রান্ত কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করতে এবং অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো অবস্থাতেই অর্থ না দিতে আলেম-ওলামা, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, মসজিদ কমিটির সদস্য, চাকরিপ্রার্থীসহ সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
প্রয়োজনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে পরিচালিত এসব প্রতারণা বন্ধ করা সম্ভব বলে মনে করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।