
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগে বড় ধরনের দুর্বলতা প্রদর্শন করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের মুখে কমিশন অনেক ক্ষেত্রে দৃঢ় অবস্থান নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি জানান, অনলাইন ও অফলাইন উভয় পরিবেশে আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে ইসি কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘গণভোট ও প্রাক-নির্বাচন পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “ঐতিহাসিক গুরুত্বের গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত, অস্পষ্ট আইনগত ব্যাখ্যা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এতে পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশও নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রাহক ও পর্যবেক্ষকদের হয়রানি ও হুমকির ঘটনাও উদ্বেগজনক।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গুগল ও মেটার মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কনটেন্ট সরাতে কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না।” তিনি জানান, ব্যবসায়িক স্বার্থ বা ‘মানি ডিপেন্ডেন্সি’-এর কারণে এই কোম্পানিগুলো যথাযথ সহযোগিতা করছে না।
গণভোট ইস্যুতে সরকারের ভূমিকেও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে সরকার দোদুল্যমান অবস্থায় ছিল। উভয় পক্ষকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টায় যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, তা গণভোটের উদ্দেশ্যকে আরও অস্পষ্ট করেছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন প্রক্রিয়াটিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল করে তুলেছে। সবচেয়ে বড় আইনি সমস্যা হিসেবে তিনি বলেন, “ইসি গণভোটকে ‘নির্বাচন’-এর সমার্থক হিসেবে বিবেচনা করছে। অথচ গণভোটে কোনো ব্যক্তি বা আসনের পক্ষে ভোট দেয়া হয় না, তাই এটি নির্বাচনের সমার্থক নয়।”
তফসিল ঘোষণার পর সরকারি কর্মচারীরা আইনিভাবে ইসির অধীনে থাকলেও সরকার তাদের গণভোটের পক্ষে প্রচারণার নির্দেশ দিয়েছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইসির সম্মতি নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ইসি আইনের ভুল ব্যাখ্যা নির্ভর করে কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্যাংক ও এনজিওসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ প্রয়োগ, গণভোট পরিচালনায় অর্থায়ন ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।