
আসন্ন ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে আইনি পদক্ষেপ জোরদার করাসহ ১২ দফা সুপারিশ জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। একইসঙ্গে টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো, সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন বন্ধ এবং যাত্রী নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (৯ মার্চ) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক হাসিনা বেগম, ড. কামরান উল বাছেত, আব্দুল্লাহ মো. ফেরদৌস খান এবং নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান এসব আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে এক কোটির বেশি মানুষ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা করবেন। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে আন্তঃজেলায় প্রায় ৪ কোটি মানুষ যাতায়াত করবেন। এত অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষকে পরিবহন করার মতো মানসম্মত গণপরিবহন দেশে নেই। ফলে অনেক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনিরাপদ যানবাহনে যাত্রা করতে বাধ্য হবেন। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির পাশাপাশি নিরাপদ যানবাহন বৃদ্ধি এবং জনসাধারণকে সচেতন করা জরুরি।
এ পরিস্থিতিতে সরকারকে কয়েকটি সুপারিশও দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সুপারিশগুলো হলো—
১. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ছাত্র-যুবদের সম্পৃক্ত করে সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
২. মানুষকে নিরাপদ ঈদযাত্রায় উৎসাহিত করতে টেলিভিশন এবং বিটিআরসির মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যম (ফেসবুক)-এ সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।
৩. সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার পরিবহন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে মানসম্মত গণপরিবহনের ঘাটতি অনেকটা পূরণ হবে।
৪. ত্রুটিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
৫. সিটি সার্ভিস বাসের মহাসড়কে চলাচল রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
৬. সড়ক পরিবহনে চাঁদাবাজি রোধে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
৭. রাতের বাসে ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশি টহল জোরদার করতে হবে।
৮. সড়কে পর্যাপ্ত আলো, স্পিড ব্রেকার ও সাইন-মার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
৯. ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে আইনি পদক্ষেপ জোরদার করতে হবে।
১০. ঈদে ঘরমুখী ও ফিরতি যাত্রায় শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।
১১. সড়কে মোবাইল টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে।
১২. দেশের সব হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা সেবা জোরদার করতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে ঈদযাত্রা তুলনামূলক নিরাপদ করা সম্ভব হবে।