
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অসুস্থ গাভীর মাংস কাটার পর অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৩৭ জনের শরীরে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার শিশুসহ আরও দুজন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রাদুর্ভাবের কারণ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ছয় সদস্যের আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন টিম।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো. জোবাইদুল কবীর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সকালে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজারসংলগ্ন বাছোয়াহাটি কমিউনিটি ক্লিনিক এলাকায় জনসচেতনতামূলক ক্যাম্প করে তদন্ত দল।
এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকার ছয় সদস্যের দলটি সুন্দরগঞ্জে পৌঁছায়। দলের সুপারভাইজার হিসেবে রয়েছেন আইইডিসিআরের সহকারী অধ্যাপক ডা: সোহেল রহমান। দলের অন্য সদস্যরা হলেন ডা: কাজী তাহমিনা করিম, ডা: মেরী হাপাং, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মিনহাজ মিয়া, মেডিকেল অ্যানথ্রোপলজিস্ট ড. আব্দুল খালেক মো. দৌলত খান ও ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট মো. তরিকুল ইসলাম।
আইইডিসিআরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা: কাজী আহমেদ জাকীর ২৩ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত চিঠিতে তদন্ত দলকে কর্মস্থলে ফেরার তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলটি আক্রান্ত ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ, প্রাদুর্ভাবের উৎস অনুসন্ধান ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সর্বশেষ চিকিৎসা নেওয়া দুজন হলেন তারাপুরের নিজামখা গ্রামের আইরীন বেগম এবং সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছোয়াহাটি গ্রামের চার বছরের শিশু রোজামনি। আইরীনের ডান হাতের আঙুলে ফোসকা পড়ে ফুলে গেছে। তার স্বামী ইব্রাহীম হোসেন জানান, তারা অসুস্থ গরুটির মাংস কিনে রান্না করে খেয়েছিলেন।
অন্যদিকে রোজামনির দাদা আব্দুর রশিদ জানান, তিন দিন আগে শিশুটির বাম চোখে সমস্যা দেখা দেয়। পরে চোখ ফুলে গেলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাকে ওষুধ দিয়েছেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের ৩৭ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে শিয়ালের কামড়ে আহত নারী-শিশুসহ নয়জনকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের কারও মধ্যে জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা যায়নি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো. জোবাইদুল কবীর জানান, গত কয়েক দিনে প্রায় ২০ হাজার গরুকে অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার আরও ৭৫০টি গরুকে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
তিনি জানান, কোনো এলাকায় হঠাৎ জীবাণুঘটিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সেটিকে আউটব্রেক ডিজিজ বলা হয়। সুন্দরগঞ্জের পরিস্থিতিও সে ধরনের হওয়ায় আইইডিসিআরের তদন্ত দল কাজ করছে।