
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বরণ করতে প্রস্তুত জাতীয় সংসদ ভবন। শপথ অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। নির্ধারিত সময়ে শপথ আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবন এখন অপেক্ষায় নতুনদের বরণের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন অধ্যায়। দীর্ঘদিন একপেশে কার্যক্রমের অভিযোগে সমালোচিত সংসদকে ঘিরে এখন প্রাণবন্ত বিতর্ক ও জবাবদিহিমূলক কার্যক্রমের প্রত্যাশা করছেন অনেকে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
এদিকে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একই দিন বিকেল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংসদ ভবনের অভ্যন্তরে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা সম্পূর্ণভাবে সারিয়ে অধিবেশন পরিচালনার প্রস্তুতি কতটা সম্পন্ন—এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি সংসদ সচিবালয়ের সচিব।
নির্বাচনের ফলাফল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে দুই দশক পর আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি। ফলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। পরদিন ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের গেজেট এখনো জারি হয়নি।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন। ফল স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপির শরিকরা পেয়েছে ৩টি আসন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্য শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৭টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে ১টি আসন।
নতুন সংসদের কার্যক্রম কেমন হবে—তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।