
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে প্রায় পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী নতুন এই বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি এখনো সিদ্ধান্তের পর্যায়ে রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত তাদের বেতন-ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ প্রচলিত এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষক-কর্মচারীরা অনুমোদিত গ্রেডের মূল বেতনের শতভাগ এমপিও হিসেবে পেয়ে থাকেন।
নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। মূল বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। নিম্ন গ্রেডগুলোর ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে। ২০তম গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ।
ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের আওতায় আনা হলে তারা যে গ্রেডে এমপিওভুক্ত, সেই গ্রেডের নতুন মূল বেতন অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন বেতন কাঠামোয় মূল বেতন বাড়লে এর প্রভাব পড়বে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টেও। নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের পর পরবর্তী ইনক্রিমেন্ট তুলনামূলক বেশি মূল বেতনের ভিত্তিতে হিসাব হওয়ার সুযোগ থাকবে।
মূল বেতনের সঙ্গে সম্পর্কিত উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতার পরিমাণও নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়তে পারে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এসব সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন বা পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
নতুন পে-স্কেলে মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতার কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য এসব ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন স্কেলের আওতায় নেওয়া হলে তাদের ক্ষেত্রেও বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য সুবিধা প্রযোজ্য হবে কি না, সেটি আলাদা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
মূল বেতন বৃদ্ধির কারণে বেতননির্ভর অবসরকালীন ও কল্যাণ সুবিধার হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান অবসর ও কল্যাণ সুবিধার কাঠামো অনুযায়ী নতুন বেতন স্কেলের প্রভাব কীভাবে কার্যকর হবে, তা পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
নবম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন পেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এর আওতায় আসছেন না। তাদের অন্তর্ভুক্তির জন্য সরকারের পৃথক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
তাই নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, উৎসব ও বৈশাখী ভাতা কিংবা অন্যান্য আর্থিক সুবিধা কতটা বাড়বে—তা নির্ভর করছে শেষ পর্যন্ত তাদের নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তের ওপর।
সরকার তাদের অন্তর্ভুক্ত করলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে গ্রেডভিত্তিক মূল বেতনে। এর সঙ্গে মূল বেতননির্ভর অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।