
কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সীমানায় অবস্থিত শতবর্ষী এক ঐতিহাসিক মসজিদে নামাজ পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করাকে কেন্দ্র করে ওপার বাংলায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ১৩৬ বছরের প্রাচীন এই উপাসনালয়টিতে অবরুদ্ধ পরিবেশ তৈরি হওয়া এবং এর প্রতিবাদে রাজপথে নামার ঘোষণার পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে সংশ্লিষ্ট এলাকায়।
কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সংলগ্ন ঐতিহাসিক গৌরীপুর জামে মসজিদে (যা স্থানীয়ভাবে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত) নামাজ আদায়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) মুসলিম সম্প্রদায়কে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ডাক দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। এই নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ওপার বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বিশৃঙ্খলা এড়াতে ১৬৩ ধারা জারি ও কড়া নিরাপত্তা
আজ শুক্রবার সকাল থেকেই যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিমানবন্দর এবং এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যেই প্রশাসন ওই এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করেছে।
উত্তেজনাপ্রবণ বিরাটি ও বাঁকড়া এলাকায় সকাল থেকেই বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে হ্যান্ডমাইকে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। ঘোষণা অনুযায়ী, ওই এলাকায় একসঙ্গে চার বা তার বেশি মানুষ জড়ো হতে পারবেন না; নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য সহিংসতা রুখতে রাজ্য পুলিশের বিশাল বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামানও।
রানওয়ে ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বনাম শতবর্ষী ঐতিহ্য
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মসজিদের প্রবেশদ্বার ও এর চারপাশের এলাকাকে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছে। বহিরাগত বা অনাকাঙ্ক্ষিত কাউকে সেখানে ভিড় করতে দেওয়া হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে অবস্থিত এই গৌরীপুর জামে মসজিদটির বয়স প্রায় ১৩৬ বছর। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, রানওয়ের একেবারে কাছাকাছি মসজিদটির অবস্থান হওয়ায় বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আর এই সুরক্ষার অজুহাতেই সেখানে নামাজ আদায় বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে এই চরম অসন্তোষ।