
কুমিল্লা নগরের কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসা ও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। টিফিনের সময় স্কুল থেকে বের হয়ে খাবার কিনতে যাওয়ার পথে তার পিঠে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীর নাম ইথান আহমেদ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। সে কাটাবিল এলাকার ইউনুস মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাটাবিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বুধবার রাত থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই রাতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মাদক ব্যবসা বন্ধ এবং আগের রাতের সহিংসতার প্রতিবাদ জানানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধন শেষ হওয়ার পর একদল অস্ত্রধারী ব্যক্তি সেখানে হামলা চালায়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়াতে থাকে। ঠিক সেই সময় স্কুলের টিফিন বিরতিতে বাইরে বের হওয়া ইথানের পিঠে গুলি লাগে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, গুলিটি শিক্ষার্থীর পিঠ ভেদ করে ফুসফুসে আঘাত করেছে। হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে শয্যা না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ ইথানের মা সোনিয়া আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে স্কুলে গিয়েছিল পড়তে। টিফিনের সময় খাবার আনতে বের হলে তার গায়ে গুলি লাগে। সে কোনো অপরাধ করেনি। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, আমি তাদের বিচার চাই। সকালে সুস্থ ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়েছিলাম, আর দুপুরে তাকে হাসপাতালে দেখতে হলো।’
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও মাদককেন্দ্রিক সহিংসতা বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সাইফুল মালিক বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক দল ও ডিবি পুলিশ কাজ করছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।’
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার জানান, মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে গুলি অপসারণের প্রস্তুতি চলছে।
সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।