
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএনএসভিএম) অনুষদে একটি কুকুরকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে অনুষদীয় লাইব্রেরির কর্মকর্তা আব্দুল কালামের বিরুদ্ধে। গত ১৯ জুন (শুক্রবার) সংঘটিত এই নির্মম ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় একটি মুরগি ধরাকে কেন্দ্র করে কুকুরটির ওপর এই সহিংস আচরণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অনুষদীয় লাইব্রেরির কর্মকর্তা আব্দুল কালাম কুকুরটিকে নির্মমভাবে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এতে প্রাণীটি রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, কুকুরটি এর আগেও পায়ের একটি আঘাতজনিত সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিল। এই বর্বরোচিত হামলার পর শিক্ষার্থীরা আবারও তাৎক্ষণিকভাবে কুকুরটির জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেন। তবে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে প্রাণীটি এখনো সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অনুষদের শিক্ষার্থীরা গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, কুকুরটিকে হত্যার উদ্দেশ্যেই বারবার তার মাথায় নির্মমভাবে আঘাত করা হয়েছে। তারা বলেন, "কোনো প্রাণী ক্ষয়ক্ষতি করলে তার মানবিক ও বৈজ্ঞানিক সমাধান খোঁজাই কাম্য। সহিংসতা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।" বিশেষ করে একটি ভেটেরিনারি (পশু চিকিৎসা) অনুষদের প্রাঙ্গণে খোদ কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণকে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি অসংগত ও নিন্দনীয় বলে মনে করছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. আলী আজগর বলেন, "ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমি প্রক্টর মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করেছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী রবিবারের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগপর্যন্ত তিনি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধারণ করার এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা আব্দুল কালামের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রাণীদের প্রতি মানবিক আচরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।