
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক সোহেল অপহরণের শিকার হয়েছেন। এ সময় তার কাছ থেকে মোট ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় অপহরণকারীরা। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মুঠোফোনে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ সলিম।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মার্চ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় যান ওই শিক্ষক। সেখানে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারের চালক তাকে ডাকলে তিনি কাছে গেলে গাড়িতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়।
পরবর্তীতে গাড়ির ভেতরে থাকা অপহরণকারীরা তাকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চোখ ও হাত বেঁধে ফেলে। এ সময় তারা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে নেয় এবং বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর জানতে চায়। পরে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং মানিব্যাগে থাকা প্রায় ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা নিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তার নামে থাকা একটি ট্রাস্ট ব্যাংকের এটিএম কার্ড ব্যবহার করে চার দফায় ২০ হাজার করে মোট ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয় বলেও অভিযোগে বলা হয়। টাকা উত্তোলনের পর অভিযুক্তরা তাকে নির্জন স্থানে নামিয়ে দেয় এবং ঘটনাটি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেয়।
পরে তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে নেমে বাসযোগে ঢাকায় যান এবং বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান। পরবর্তীতে কুমিল্লা ফিরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন উক্ত শিক্ষক।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক সোহেল বলেন , 'গতকাল দুপুর আনুমানিক আড়াইটার সময় ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে কোটবাড়ি বিশ্বরোডে অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ একটি প্রাইভেটকার এসে আমাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট পার হওয়ার পর তারা আমার চোখ, হাত ও পা বেঁধে ফেলে। এরপর আমার কাছে থাকা মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ এবং নগদ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। তারা আমার এটিএম কার্ডের পাসওয়ার্ড জানতে চাইলে আমি প্রথমে অস্বীকৃতি জানাই। পরে আমাকে মারধর করা হলে বাধ্য হয়ে পাসওয়ার্ড জানাতে হয়। একই সঙ্গে তারা আমার বিকাশ নম্বরের পাসওয়ার্ডও নিয়ে নেয়।'
তিনি আরও বলেন, 'ডাকাত দল আমার কাছ থেকে মোট ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে নেয় এবং পরে আমাকে দাউদকান্দির একটি অজ্ঞাত স্থানে ফেলে রেখে যায়। এ সময় তারা আমাকে কয়েকবার গুলি ও স্প্রে করে অজ্ঞান করে দেওয়ার হুমকি দেয়। ঘটনার পর থেকে আমি এখনো গভীর ট্রমার মধ্যে আছি। এ বিষয়ে আমি থানায় মামলা করেছি। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।'
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, 'অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে ভুক্তভোগী সদর দক্ষিণ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আমরা অতি দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।'