
পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ত্যাগ, তাকওয়া ও মহান আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ। কুরবানির মাধ্যমে একজন মুসলিম তার সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করে এবং নিজের অন্তরের ঈমানকে শাণিত করে।
পবিত্র কুরআনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
অর্থ: ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের জন্য নামাজ আদায় কর এবং কুরবানি কর।’
(সূরা আল-কাওসার: আয়াত নম্বর ২)
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা কুরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন,
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ
অর্থ: ‘আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না পশুর মাংস বা রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’
(সূরা আল-হাজ্জ: আয়াত নম্বর ৩৭)
এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, কুরবানির আসল লক্ষ্য বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং অন্তরের আন্তরিকতা ও আল্লাহভীতি।
হাদিসেও কুরবানির গুরুত্ব অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) বলেছেন,
مَا عَمِلَ آدَمِيٌّ مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ مِنْ إِهْرَاقِ الدَّمِ
অর্থ: ‘কুরবানির দিনের আমলের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো কুরবানি করা।’
সহীহ তিরমিজি।
এছাড়া তিনি সতর্ক করে বলেন,
مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا
অর্থ: ‘যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।’
সুনানে ইবনে মাজাহ।
ইসলামের ইতিহাসে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের ঘটনা কুরবানির মূল প্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হয়। আল্লাহর আদেশে তিনি নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ত্যাগ করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন, যা মুসলিমদের জন্য এক অনন্য শিক্ষা।
তাই কুরবানি কেবল ধর্মীয় ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কুরবানির গোশত আত্মীয়স্বজন ও অসহায়দের মাঝে বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও সাম্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।
সবশেষে বলা যায়, কুরবানি আমাদের শেখায়, ত্যাগের মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত সাফল্য, আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই একজন মুমিনের চূড়ান্ত লক্ষ্য।
মুহা. সিয়াম
চরমোনাই, বরিশাল।