
গ্রিসে পাঠানোর কথা বলে ইরানে আটকে রেখে ৯ যুবককে পাশবিক নির্যাতন ও মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের খিদিরপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আটঘরিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, আটঘরিয়া উপজেলার খিদিরপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম মোল্লার ছেলে আলমগীর হোসেন তাঁদের গ্রিসে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তাঁর কথায় রাজি হয়ে ঈশ্বরদী উপজেলার মিরকামারি গ্রামের মোজাহিদুল ইসলাম ও সাইফুল আলম, জয়নগর গ্রামের খোকন আলী, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার গোবনধারপুর গ্রামের খায়রুল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মীরপুর উপজেলার খাড়াল্লা গ্রামের জাহিদুল ইসলামসহ মোট ৯ জন জনপ্রতি দুই লাখ টাকা করে দেন।
মোজাহিদুল ইসলাম ও সাইফুল আলম জানান, তাঁদের নৌপথে গ্রিসে পাঠানোর কথা বলা হলেও ইরানে নিয়ে একটি নির্জন স্থানে প্রায় তিন মাস আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁদের কাছ থেকে জনপ্রতি আরও সাত লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় তাঁদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলেও দাবি করেন তাঁরা।
খোকন আলী জানান, নির্যাতনের মুখে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর অনুরোধ করেন তাঁরা। পরিবারগুলো ধারদেনা ও সম্পদ বিক্রি করে টাকা জোগাড় করে পাঠালে তাঁরা মুক্তি পান।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত দালাল আলমগীর হোসেনের মুঠোফোন ০১৩০২-২০৫৬০২ নম্বরে ফোন করা হলে একজন ফোন রিসিভ করে তাঁর ভাই পরিচয় দেন। তিনি জানান, এই নম্বরটি আলমগীরের নয়। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে এবং আলমগীরের মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সারাদিন জেলা পুলিশের মিটিংয়ে ছিলাম। তাঁরা অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’