
ভোলার চরফ্যাশনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিগ্রহণ করা সরকারি জমিতে অবৈধভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। পূর্বের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাত দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে পাউবো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে আইনানুগ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক পত্রে (স্মারক নং-এল-২/৪৮৫) এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
পাউবোর নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জুয়েল (পিতা: আবুল কালাম) উপজেলার হাজারীগঞ্জ মৌজার চেয়ারম্যান বাজার-সংলগ্ন এলাকায় উপকূলীয় বাঁধ প্রকল্পের (১৯৬৬-৬৭) আওতায় পাউবোর অধিগ্রহণ করা জমিতে অবৈধভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট স্মারক নং-এল-২/২৮৭-এর মাধ্যমে লিখিতভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ এবং স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ায় এবার চূড়ান্ত নোটিশ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩-এর ২১(১) ধারার বিধান অনুযায়ী, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া বাঁধ বা এর সংলগ্ন জমিতে ঘরবাড়ি কিংবা অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা নিষিদ্ধ। এ ধরনের অবৈধ নির্মাণ বাঁধের নিরাপত্তা ও সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চূড়ান্ত নোটিশে সংশ্লিষ্ট স্থানে সব ধরনের নির্মাণকাজ, নির্মাণসামগ্রী পরিবহন ও স্থাপনা সম্প্রসারণ অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নোটিশ জারির সাত দিনের মধ্যে নিজ খরচে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে জমি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিতে এবং নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়টি লিখিতভাবে পাউবো কার্যালয়কে জানাতে বলা হয়েছে।
ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দিন জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে অতিরিক্ত নোটিশ ছাড়াই আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে উচ্ছেদ অভিযানের যাবতীয় ব্যয় ও আইনি দায়ভার অভিযুক্ত ব্যক্তির ওপর বর্তাবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।