
সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আসা ভারতীয় পণ্য জব্দের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা। বিজিবি সদস্যদের ওপর লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হওয়ার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল রোববার (৭ জুন) বিকেলে সুলতানপুর ৬০ বিজিবির আওতাধীন সালদা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. মাসুদ বাদী হয়ে কসবা থানায় এই মামলাটি রুজু করেন।
দায়েরকৃত মামলায় বায়েক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, বায়েক ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি স্বপন মিয়া এবং বিএনপি নেতা হুমায়ুন মিয়াসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ৩ জুন সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের নয়নপুর এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি। ওই সময় ভারতীয় চোরাই পণ্য বহনকারী একটি পিকআপ ভ্যান আটক করতে সক্ষম হন সীমান্তরক্ষীরা, যাতে বিপুল পরিমাণ বাসমতি চালসহ বিভিন্ন অবৈধ মালামাল ছিল। তবে জব্দকৃত পণ্যসমূহ নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হতেই অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ রূপ নিয়ে বিজিবি সদস্যদের দায়িত্ব পালনে চরম বাধা সৃষ্টি করে এবং মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
মামলার বিবরণীতে অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা লাঠি, রড, দা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এতে বিজিবির কয়েকজন সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে দিদার হোসেন, ফেরদৌস, তারেক ও মোস্তাফিজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সংঘাতময় পরিস্থিতি একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিজিবি সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী কৌশলগত কারণে সাময়িকভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে আহত জোয়ানদের উদ্ধার করে দ্রুত সুলতানপুর বর্ডার গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
ঘটনার চার দিন পর মামলা করার বিষয়ে এজাহারে স্পষ্ট করা হয় যে, হামলায় জড়িতদের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা, তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও সুনির্দিষ্টভাবে অপরাধীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়ার কারণে মামলা দায়ের করতে কিছুটা সময় লেগেছে।
এ প্রসঙ্গে মামলার বাদী সুবেদার মো. মাসুদ বলেন, “ঘটনার পর অনুসন্ধান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা চোরাকারবারির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।”
কসবা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নূরুল আমিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নয়নপুর এলাকায় ভারতীয় চোরাইপণ্য আটককে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, সীমান্ত এলাকার এই মারমুখী ঘটনার পর দায়ের হওয়া মামলায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নাম জড়িয়ে দেওয়ায় তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বায়েক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান।
মামলাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তিনি বলেন, “প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেককে বাদ দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।” এর পাশাপাশি তিনি কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের মুখোমুখি করার জোর দাবি জানান।