
ফেনীর মহিপালে জুলাই আন্দোলন ঘিরে করা পৃথক চারটি হত্যা মামলায় ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুনানির সময় তিনি তদন্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ‘এখন ক্ষমতা আছে, গ্রেফতার দেখান। আমরাও শেষ দেখে নেবো’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ফেনী সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান পৃথক চারটি হত্যা মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি আদালতে সরাসরি হাজির না হয়ে ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেন।
আদালত সূত্র জানায়, সাইদুল ইসলাম শাহী, জাকির হোসেন শাকিব, ইসতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ এবং সরোয়ার জাহান মাসুদ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা শুনানিতে উপস্থিত থেকে মামলার অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং গ্রেফতার দেখানোর আবেদন জানান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা বক্তব্য উপস্থাপনের সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘এখন ক্ষমতা আছে, গ্রেফতার দেখান। আমরাও এটার শেষ দেখে নেবো।’ তাঁর দাবি, বক্তব্যটি তদন্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হুমকিস্বরূপ ছিল। পরে আদালত দ্রুত চার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়ে ভার্চুয়াল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক ও একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, চারটি মামলার শুনানি শেষে আদালত গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন। শুনানির সময় আসামি কিছু বিরূপ মন্তব্য করেছেন।
ইসতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, আদালতে কিছু উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
ফেনী আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, চারটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন শুনানি শেষে আদালত আদেশ দিয়েছেন। শুনানিতে আসামি ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজীম বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং এ নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফেনীর মহিপাল এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সহিংসতায় হতাহতের ঘটনায় এসব হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।