
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে। আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষে অংশ নেবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে স্পিকারের উপস্থিতি দুই দেশের জনগণের মধ্যে গভীর ও স্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন। এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃঢ়তাকে আরও জোরালো করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধনে আবদ্ধ ভারত ও বাংলাদেশ। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরকে ভারত স্বাগত জানায়।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এ প্রতিনিধিত্ব বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্বের প্রতিফলন। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের বার্তাও এতে রয়েছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম উইওনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে একই দিনে মুম্বাইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক থাকায় তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারছেন না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লোকসভা স্পিকার ও শীর্ষ কূটনীতিককে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত বহন করে। এটি দীর্ঘ সময় ধরে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকার আগামী মঙ্গলবার শপথ নেবে। এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।
এদিকে বাংলাদেশের বিরোধী দল (জামায়াত-এনসিপি জোট) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর বিরোধিতা করছে।
ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া–এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক শফ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ প্রায় ২০টি দেশের শীর্ষ নেতার অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদি ও ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে।