
সাতক্ষীরার তালায় সারের ব্যবসার আড়ালে বসতঘরে গড়ে তোলা নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণের কারখানায় অভিযান চালিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ সময় প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ নকল সার, কীটনাশক ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান জব্দ করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই ব্যবসায়ীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বুধবার সকালে উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের লাউতাড়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত মশিয়ার রহমান ওই গ্রামের ইমান আলী মোড়লের ছেলে। তিনি বিসিআইসি সারের অনুমোদিত সাব-ডিলারশিপের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল ও নিম্নমানের কৃষি উপকরণ কেনাবেচায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সকালে মশিয়ার রহমানের বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। তল্লাশির সময় ঘরের ভেতর প্রস্তুত করা ভেজাল সারের বস্তা, বিভিন্ন নামী কোম্পানির নামে নকল প্যাকেজিংয়ে মোড়কজাত কীটনাশক, তরল রাসায়নিকের ড্রাম এবং কৃষি উপকরণ প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায়।
এ ছাড়া ঘরের মেঝে ও খাটের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নিম্নমানের সারের প্যাকেট এবং খালি বোতলের বড় স্তূপও দেখতে পান অভিযানকারী দলের সদস্যরা। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মশিয়ার রহমান নিজ বসতঘরে এসব পণ্য অবৈধভাবে মজুত ও বাজারজাত করার কথা স্বীকার করেন বলে জানানো হয়েছে।
অভিযান শেষে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। সারের ব্যবসা ও সাব-ডিলারশিপের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম ও ক্ষতিকর কৃষি উপকরণ সরবরাহের অপরাধে সংশ্লিষ্ট আইনে মশিয়ার রহমানকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই সঙ্গে জব্দ করা প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের নকল সার, রাসায়নিক ও ভেজাল কীটনাশক জনসমক্ষে এবং প্রশাসনের নজরদারিতে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করার নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, নকল ও মানহীন সার-কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষকেরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। বিসিআইসি সারের ডিলার বা সাব-ডিলার হয়ে এ ধরনের স্পর্শকাতর কৃষি উপকরণ নিয়ে প্রতারণা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
তিনি বলেন, কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ও জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, ভেজাল সার ও কীটনাশক বিক্রির বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের তাৎক্ষণিক সাজায় স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে।