
তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এলেও লালমনিরহাটের হাতীবান্ধাসহ তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। প্লাবিত সড়কে চলাচলে ভোগান্তির পাশাপাশি উজান থেকে ভেসে আসা কচুরিপানায় ভরে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, যা আমন ধান রোপণে নতুন সংকট তৈরি করেছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫১ দশমিক ৯৮ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ৫২.১৫ মিটার)। এটি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে একই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল থেকেই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানির সঙ্গে ভেসে আসা বিপুল পরিমাণ কচুরিপানায় তিস্তার তীরবর্তী কৃষিজমি ঢেকে গেছে। আমন ধান রোপণের মৌসুমে এই পরিস্থিতিতে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে গিয়ে মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। চর ও নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকা এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা তীরবর্তী বিস্তীর্ণ ফসলি জমিও পানির নিচে চলে গেছে। নদীভাঙনের আশঙ্কাও বাড়ায় তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পানি বৃদ্ধির প্রভাবে হাতীবান্ধা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ৮ থেকে ১০টি চর, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, আদিতমারীর চর গোবর্ধন ও মহিষখোঁচা এবং সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের চর ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা এখনো নানা দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
তিস্তা চরের কৃষক সেলিম হোসেন বলেন, "পানি কমলেও চরের আমন ধান রোপণের জমিগুলোতে উজান থেকে আসা কচুরিপানায় ভরে গেছে। এখন এই কচুরিপানা পরিষ্কার করতে আমাদের বাড়তি খরচ করতে হবে। চলাচলের রাস্তাগুলো এখনো পানিবন্দি হয়ে আছে। হাটবাজার করতে পারছি না, খুব কষ্টে আছি আমরা।"
কৃষক ইয়াছিন আলী বলেন, "পানি কমলেও এখনো একবুক পানি দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। আবার নদীর ভাঙনও শুরু হয়েছে। ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। আমাদের দেখার কেউ নেই।"
তিস্তা পাড়ের বাসিন্দা ফসোর বিবি বলেন, "সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। গরু-ছাগল ঘর থেকে বের করতে পারছি না। বাদাম, বুনাগুলো (ধানের চারা) নষ্ট হয়েছে। সরকারের কাছে আবেদন, তিস্তার কাজ করে আমাদের পাশে দাঁড়ান।"
তিস্তা ডালিয়া পয়েন্টের পানির লেভেল পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই নদীর পানি কমার প্রবণতা দেখা গেছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খোলা রাখা হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, তিস্তার পানি কমলেও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।