
শহীদদের স্মৃতি ও ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তাঁর দাবি, রাজনীতির ময়দানে আধিপত্য বিস্তারের জন্য এনসিপি কৌশলে ‘ধর্মীয় ভণ্ডামি’ ও জুলাই বিপ্লবের শহীদদের ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করছে।
ওসমান হাদির বয়ানেই এনসিপির সমালোচনা
শনিবার (৯ মে) নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে রাশেদ খান এনসিপির কর্মকাণ্ডকে 'নতুন রাজনীতির নামে পুরনো ভণ্ডামি' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি প্রয়াত শহীদ ওসমান হাদির জীবিতাবস্থার কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করে দেখান যে, হাদি নিজেই এই দলটির কড়া সমালোচক ছিলেন। রাশেদ খানের ভাষ্যমতে, ওসমান হাদি এনসিপির বিরুদ্ধে তিনটি প্রধান অভিযোগ তুলেছিলেন:
১. আওয়ামী লীগ যেভাবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের একক সম্পদ বানিয়েছিল, এনসিপিও জুলাই বিপ্লবকে একইভাবে কুক্ষিগত করেছে।
২. মাত্র ৮-১০ মাসের ব্যবধানে এনসিপি নেতাদের কোটিপতি হওয়া নিয়ে তিনি দুর্নীতির প্রশ্ন তুলেছিলেন।
৩. জুলাইয়ের বৃহত্তর ঐক্য বিনষ্ট এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শক্তিকে দুর্বল করার পেছনে এনসিপিকে দায়ী করেছিলেন তিনি।
রাশেদ খান পোস্টে উল্লেখ করেন:
‘ঠিক ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ যেভাবে আওয়ামীলীগ কুক্ষিগত করেছে, এনসিপি সেভাবে জুলাইকে কুক্ষিগত করেছে।’
‘আইডল’ বনাম ‘রাজনৈতিক ট্রাম্প কার্ড’
বিএনপি নেতার দাবি, ওসমান হাদি বেঁচে থাকতে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে এড়িয়ে চলতেন, অথচ এখন তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে দলীয় প্রতীকে পরিণত করার অপচেষ্টা চলছে। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন:
‘শহীদ হওয়ার পরে হয়ে গেলেন এনসিপির আইডল। জাতীয় নির্বাচনের আগে তাকে এনসিপির সবচেয়ে বড় আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলো।’
তিনি আরও জানতে চান, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী কি সত্যিই হাদির আদর্শ অনুসরণ করছেন, নাকি তাঁকে কেবল একটি ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
মসজিদ কেন্দ্রিক প্রচারণার অভিযোগ
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর জনসংযোগ কৌশলেরও কড়া সমালোচনা করেন রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করেন, জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে গুগল ম্যাপ ও ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানিয়ে দিয়ে পাটোয়ারী কৃত্রিম ভিড় তৈরি করছেন।
রাশেদ খান লিখেছেন:
‘তিনি খুব জনপ্রিয় হয়েছেন, এটা দেখানোর জন্য তিনি তার পিআর টিম নিয়ে মসজিদে যাচ্ছেন। জোট ও দলের নেতাকর্মীদের জড়ো করছেন এবং সারাদেশের মানুষকে দেখাচ্ছেন যে, তাকে এক নজর দেখার জন্য সবাই মসজিদে নামাজে এসেছে।’
নারায়ণগঞ্জের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এমন প্রচারণার ফলে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ মুসল্লিরা চরম বিরক্ত হচ্ছেন।
শহীদের সার্বজনীনতা রক্ষার আহ্বান
পোস্টের শেষ দিকে রাশেদ খান বলেন, ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাওয়া আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। তবে কোনো শহীদকে নিয়ে অতিমাত্রায় নোংরা রাজনীতি করা হলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
‘আমরা সবাই ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাই। কিন্তু যখন কোনো শহীদকে নিয়ে অতিমাত্রায় রাজনীতি করা হয়, তখন ধীরে ধীরে তার সার্বজনীনতা নষ্ট হতে থাকে।’