
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ঘোষিত সাধারণ ছুটির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে। পণ্যবাহী যানবাহনের সীমিত চলাচল এবং পাইকারি আড়তের আংশিক বন্ধ থাকার কারণে সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে মুরগি, পেঁয়াজ এবং বিভিন্ন সবজির দামে।
নির্বাচনের পরই ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২১০ টাকায়, আর সোনালি মুরগির দাম ৩১০ থেকে ৩৪০ টাকার মধ্যে। খামার থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না আসায় দাম কমানো সম্ভব হয়নি, জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
পেঁয়াজের বাজারেও স্বস্তি নেই। পুরোনো দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১১০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে মানভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। তবে কিছু এলাকায় কেজি প্রতি প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি দেখা গেছে।
সবজির বাজারে ভোটের আগের তুলনায় দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় এবং কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। শিম, মুলা ও পেঁপে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় এবং বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। হাইব্রিড করলা ও মটরশুটির দাম ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, নির্বাচনের দিন এবং এর আগে-পরের সময় যানবাহন চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে পাইকারি বাজার থেকে খুচরা পর্যায়ে পণ্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সীমিত পরিবহন চলাচলের কারণে ভাড়া দেড় থেকে দুইগুণ বেড়ে গেছে, যা সরাসরি কাঁচাপণ্যের দামে প্রতিফলিত হয়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন আড়তে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম পণ্যবাহী গাড়ি দেখা গেছে।
এছাড়া বাজারে ক্রেতার উপস্থিতিও কম ছিল। বিক্রি কম হওয়ায় অনেক দোকানি এবং ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা সবজি আনেননি, কিছু দোকানও বন্ধ ছিল। বউবাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, “সরবরাহ ও ক্রেতা; দুটোই কম। তাই দাম কিছুটা বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে আছে। স্বাভাবিক সময়ের মতো ক্রেতা থাকলে দাম আরও বাড়ত।”
সেগুনবাগিচার এক বিক্রেতা জানান, কারওয়ান বাজারে আমদানি কম থাকায় শসা, মটরশুটি, ফুলকপি ও বাঁধাকপি আনতে পারেননি।
বেশির ভাগ সবজি এক-দুই দিনের বেশি মজুত রাখা সম্ভব নয় বলে ব্যবসায়ীরা জানান। তারা আশা করছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্যাংক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
তবে তেল, চিনি ও ডিমের মতো মুদিপণ্যের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। ডিম প্রতি ডজন ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।