
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরোনো ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদে’ আপাতত নামাজ আদায় বন্ধ ঘোষণা করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। গত শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত সেখানে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করলেও শনিবার (১১ জুলাই) থেকে মসজিদের একমাত্র প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ জমিরউদ্দিন একটি গণমাধ্যমকে বলেন, মসজিদে নামাজ বন্ধের বিষয়ে আগে থেকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে মসজিদটি স্থানান্তরের বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। সে সময় বিকল্প হিসেবে আরও প্রশস্ত জায়গা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিধিমালা অনুযায়ী রানওয়ে থেকে যেকোনো স্থাপনার ন্যূনতম দূরত্ব ২৪০ মিটার হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদটি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। পাশাপাশি এটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা-নিয়ন্ত্রিত এলাকার মধ্যে থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদটি স্থানান্তর প্রয়োজন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকা সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (সিআইএসএফ) নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানে রয়েছে। অতীতেও সংস্থাটি ওই স্থাপনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮৯০ সালে ‘গৌরীপুর জামে মসজিদ’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয় উপাসনালয়টি। পরে এর নাম পরিবর্তন করে ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ’ রাখা হয়। ১৯২৪ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের প্রায় ৩৪ বছর আগেই মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
স্থানীয় ইতিহাসবিদদের তথ্য অনুযায়ী, অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল, এমনকি বর্তমান বাংলাদেশের সাতক্ষীরা এলাকা থেকেও একসময় মুসল্লিরা এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসতেন। বর্তমানে উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারাও নিয়মিত এখানে নামাজ আদায় করেন।
ঘটনাটি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক হলেও কেউ যেন এ নিয়ে রাস্তায় না নামেন। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এবং মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুযোগ নিশ্চিত করতে তিনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জোরপূর্বক মসজিদের প্রবেশদ্বার বন্ধ না করারও মত দেন তিনি।
এ বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দ, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড এবং জমিয়ত উলামায়ে হিন্দসহ বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বানও জানান সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আনন্দবাজার পত্রিকা।