
দেশজুড়ে প্রাণীর ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা বাড়তে থাকায় তা রোধে সরকারের কাছে জরুরি পদক্ষেপ দাবি করে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার।
রোববার (১২ এপ্রিল) প্রেরিত এই নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রককে বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশে বাগেরহাটের খান জাহান আলীর মাজার এলাকায় একটি জীবিত কুকুরকে কুমিরের সামনে নিক্ষেপ করার ঘটনাকে গুরুতর আইন লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়া ঢাকার ধানমন্ডিতে বিড়াল হত্যার ঘটনা, কাটাবনে পশু-পাখির মৃত্যু এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে কুকুর-বিড়ালের ওপর নির্যাতনের বিষয়গুলোও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার তাঁর নোটিশে প্রাণী সুরক্ষায় ২১টি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রাণী কল্যাণ আইন-২০১৯ সংশোধনের মাধ্যমে শাস্তির মাত্রা বৃদ্ধি, প্রাণী খাদ্যের ওপর আরোপিত সব ধরনের ভ্যাট ও কর প্রত্যাহার এবং ‘জাতীয় প্রাণী কল্যাণ কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রতিষ্ঠা।
অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাণী নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ টাস্কফোর্স ও ‘প্রাণী পুলিশ সেল’ গঠন, প্রতিটি এলাকায় প্রাণীদের জন্য নির্ধারিত কবরস্থান ও সরকারি এনিমেল হোটেল স্থাপন, সরকারি পশু হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে জলাতঙ্ক টিকা প্রদান, ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা উদ্ধার সেবা চালু এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমে প্রাণী কল্যাণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা।
নোটিশে বলা হয়েছে, বাগেরহাটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য সুপারিশ বাস্তবায়নে ৩০ দিনের মধ্যে উদ্যোগ না নেওয়া হলে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে।
আইনজীবী আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।