
দেড় বছর আগের অগ্নিসংযোগ আর ভাঙচুরের স্মৃতি মুছে না যেতেই আবারও আলোচনায় ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়। শুক্রবার সকালে সেখানে বঙ্গবন্ধুর ছবি ও জাতীয় পতাকা হাতে স্লোগান দিতে দেখা গেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুব মহিলা লীগের কয়েকজন নেত্রীকে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে সরকারের পতনের পর উত্তেজিত জনতা ধানমন্ডিতে অবস্থিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। প্রায় দেড় বছর পর একই স্থানে আবারও সাংগঠনিক উপস্থিতির চেষ্টা দেখা গেল।
শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধানমন্ডি ৩/এ সড়কের ৫১ নম্বর বাড়ির সামনে ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মীকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত যুব মহিলা লীগ এর নেত্রী বলে জানা গেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও জাতীয় পতাকা সামনে রেখে তারা কিছু সময় স্লোগান দেন।
সংগঠনটির এক নেত্রী টেলিফোনে গণমাধ্যমকে বলেন, "আজকে আমরা একটু রিস্ক নিয়েই গিয়েছি।" তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ধানমন্ডির এই আওয়ামী লীগ অফিস আবারও মুখরিত হয়ে উঠবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে আওয়ামী লীগের। ওই দিন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন জনতার দখলে চলে যায় এবং সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
একই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু ভবন এবং আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়েও হামলা হয়। কার্যালয়ের তিনটি ভবনে ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর স্থানীয় কিছু নেশাগ্রস্ত যুবক পোড়া ভবনটিকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। একই সময়ে ভবনটি ঘিরে স্থানীয় কয়েকজনকে পাহারায়ও দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কেউ সেখানে গেলে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনাও ঘটেছে।
গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সব সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সে হিসেবে যুব মহিলা লীগের কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১০ থেকে ১২ জন নেত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ছবি ও জাতীয় পতাকা নিয়ে কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হন। কিছুক্ষণ স্লোগান দিয়ে তারা সেখান থেকে সরে যান।