
দীর্ঘদিন ধরেই মুক্তির অপেক্ষায় ছিল ‘বনলতা সেন’। মাঝেমধ্যে সিনেমাটির খবর সামনে এলেও পর্দায় ওঠার দিন যেন বারবার আড়ালেই থেকে যাচ্ছিল। অবশেষে আসন্ন ঈদে মুক্তির ঘোষণা আসতেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে সিনেমাটিকে ঘিরে ভেতরের অস্বস্তিকর এক দ্বন্দ্ব। নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল ও সহ-প্রযোজক তরুণ মজুমদারের সম্পর্ক এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন।
সরকারি অনুদানে নির্মিত সিনেমাটি ২০২১-২২ অর্থবছরে অনুমোদন পায়। এরপর ধীরে ধীরে শুটিং ও অন্যান্য কাজ এগোলেও নানা জটিলতায় দুই বছর ধরে সিনেমাটির মুক্তি পিছিয়ে যায়। সম্প্রতি নতুন পোস্টার প্রকাশ করে ঈদে মুক্তির ঘোষণা দেন নির্মাতা। আর সেই ঘোষণার পরই প্রকাশ্যে আসে সহ-প্রযোজকের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি।
সহ-প্রযোজক তরুণ মজুমদারের দাবি, সিনেমাটির পেছনে ধাপে ধাপে মোট ৬১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে তাকে পাশ কাটিয়ে সিনেমা মুক্তির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তার অভিযোগ, সেন্সর বোর্ডে জমা দেয়ার সময়ও তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘প্রথমে ৪০ লাখ টাকা দিয়েছি, পরে আরও ২১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। কিন্তু এরপর সিনেমার অগ্রগতি নিয়ে জানতে চাইলে নানা টালবাহানা শুরু হয়। পরে টাকা ফেরত নিয়ে সরে যেতে চাইলেও সেটি আর পাইনি। তখন বাধ্য হয়ে আইনি পথে যেতে হয়েছে।’
অন্যদিকে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। তার ভাষ্য, শুরু থেকেই এটি ছিল ব্যবসায়িক সমঝোতার একটি কাজ। তবে সিনেমা মুক্তির আগেই সহ-প্রযোজক প্রতারণার অভিযোগ এনে আদালতের শরণাপন্ন হন। তিনি বলেন, ‘সিনেমা নির্মাণের পর সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের টাকা ফেরত দেয়া সম্ভব হয় না। তদন্তও হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা মেনেই সিনেমা মুক্তির প্রস্তুতি চলছে।’
উজ্জ্বল আরও জানান, সরকারি অনুদানের সিনেমায় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামই প্রযোজক হিসেবে থাকে। পাশাপাশি তরুণ মজুমদার প্রযোজক সমিতির সদস্য নন বলেও দাবি করেন তিনি। তার কথায়, সিনেমার বেশির ভাগ কাজ শেষ হওয়ার পর সহ-প্রযোজক সুদসহ অর্থ ফেরত চান, যা তখন দেয়া সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি আইনি জটিলতায় রূপ নেয়।
কবি জীবনানন্দ দাশ-এর বিখ্যাত কবিতা অবলম্বনে নির্মিত ‘বনলতা সেন’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা। কবির চরিত্রে দেখা যাবে খায়রুল বাসার-কে। এছাড়া অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, সোহেল মণ্ডল ও প্রিয়ন্তী উর্বী।