
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা প্রায় শেষ। বরযাত্রীর খাওয়া-দাওয়াও হয়ে গেছে। বিয়ে পড়ানোর জন্য হুজুরও প্রস্তুত। ঠিক সেই সময় বিয়েবাড়িতে হাজির হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বিয়েতে যোগ দিতে নয়, ১৩ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক কিশোরীর বিয়ে বন্ধ করতেই সেখানে যান তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের থলিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বাল্যবিয়ে বন্ধ করার পাশাপাশি কনের বাবা মো. মহিন উদ্দিন মানিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন রামগড় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীন আল জান্নাত। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে না দেওয়া এবং প্রাপ্তবয়স্ক কনে ছাড়া বিয়ে না করার বিষয়ে বর ও কনে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বরকে নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, থলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মহিন উদ্দিন মানিকের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ফারহানার সঙ্গে একই উপজেলার বলিপাড়া গ্রামের মো. ইউছুপের ছেলে সাখাওয়াত হোসেনের (২৫) বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল রোববার। সে অনুযায়ী কনের বাড়িতে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। নির্ধারিত সময়ে বরপক্ষও বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হয়। এরই মধ্যে বরযাত্রীদের খাওয়া-দাওয়াও শেষ হয়।
এর মধ্যে বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে রামগড় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীন আল জান্নাত পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হন। কনের জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করে তাঁর বয়স ১৩ বছর নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
বাল্যবিয়ে আয়োজনের অপরাধে কনের বাবা মো. মহিন উদ্দিন মানিককে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারায় ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে না দেওয়া এবং প্রাপ্তবয়স্ক কনে ছাড়া বিয়ে না করার বিষয়ে পাত্র ও পাত্রী উভয় পক্ষের অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীন আল জান্নাত বলেন, ‘পাত্রীর জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করে দেখা যায়, তার জন্মতারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৩। সে হিসেবে বর্তমানে তার বয়স ১৩ বছরের কিছু বেশি। সে স্থানীয় একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। এই শিশু বয়সে বিয়ে দেওয়া শুধু আইনত অপরাধ নয়, অত্যন্ত জঘন্য কাজ। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি।’
তিনি বলেন, ‘বিয়েবাড়িতে উপস্থিত সবাইকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, তাঁর উপস্থিতিতেই পাত্রপক্ষকে তাদের নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে আইন অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। এর আগে বিয়ে দেওয়ার আয়োজন করা হলে তা বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।