
দেশে উৎপাদিত খাদ্যের একটি বড় অংশই শেষ পর্যন্ত ডাস্টবিনে চলে যাচ্ছে—জাতিসংঘের এমন এক উদ্বেগজনক পরিসংখ্যানের আবহে প্রকৃত চিত্র ও সরকারি অবস্থান জাতীয় সংসদে স্পষ্ট করেছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি জানান, জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউনেপের (UNEP) ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স রিপোর্টে বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ খাদ্য নষ্ট হওয়ার যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তা মূলত একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন।
সোমবার (৮ জুন) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য উপস্থাপন করেন।
ইউনেপের প্রতিবেদন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম তাঁর প্রশ্নে জানতে চেয়েছিলেন, ইউনেপের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে প্রতি বছর উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ৩৫ লাখ টন অপচয় হচ্ছে। এই বিপুল ক্ষতি ঠেকাতে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে খাদ্য মন্ত্রণালয় কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে?
এই প্রশ্নের জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, "জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনেপের ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদনে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, তবে প্রতিবেদনে যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সামগ্রিক সংখ্যা।"
তিনি আরও জানান, দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিত খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে সরকারি গুদাম ও আধুনিক সাইলোতে মজুত রাখে। পরবর্তীতে তা বিভিন্ন খাতে বিতরণ করা হয়। এই সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার সময় কিছু পরিমাণ খাদ্যশস্য অবধারিতভাবেই নষ্ট হয়। তবে নতুন ও আধুনিক সাইলো-গুদাম নির্মাণ এবং পরিবহন ও সংরক্ষণের সাথে যুক্ত অংশীজনদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার এই অপচয়ের হার ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনছে।
কমছে সরকারি খাতের খাদ্যশস্যের ঘাটতি
২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন, যা শতকরা হিসাবে শূন্য দশমিক ৩১৬ শতাংশ। অপরদিকে, পরবর্তী ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এই অপচয় ও ঘাটতির পরিমাণ আরও কমে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ মেট্রিক টনে; যা শতকরা হিসাবে মাত্র শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। সরকারি এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, আগের বছরের তুলনায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে খাদ্যশস্যের অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় খাদ্যশস্যের ঘাটতি বা অপচয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে।
অপচয় রোধে সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপ
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী সংসদে আরও জানান, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদিত ফসলের অপচয় ও ক্ষতি কমিয়ে আনতে ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’ মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের বহুমাত্রিক কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করছে।