
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস উপকূলের কাছে ছয় আরোহী নিয়ে একটি মেডিকেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিমানের সঙ্গে মাঝ আকাশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বারমুডা থেকে বোস্টনের পথে থাকা গালফস্ট্রিম জি-১০০ মডেলের উড়োজাহাজটির কোনো হদিস না মেলায় নানটাকেট দ্বীপের আশপাশে আকাশ ও সমুদ্রপথে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় শনিবার (১ অক্টোবর) রাত ১টার কিছু পর বিমানটির সঙ্গে রাডার ও বেতার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।
জরুরি সংকেতের পরই অদৃশ্য বিমান
মার্কিন কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি ‘ল্যাটিচিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স’-এর। বিদেশে গুরুতর অসুস্থ রোগী ও তাদের স্বজনদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মেডিকেল ফ্লাইট পরিচালনা করে।
প্রতিষ্ঠানটির ফ্লাইট পরিচালনা বিভাগের পরিচালক ক্ল্যারেন্স টোগেরেটজের তথ্য অনুযায়ী, বিমানে ছিলেন দুই পাইলট ও দুই চিকিৎসাকর্মী। তারা চারজনই কানাডার নাগরিক। এ ছাড়া একজন রোগী এবং তার একজন স্বজন ছিলেন, তবে তারা কানাডার নাগরিক নন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪০ মিনিটে বারমুডার এলএফ ওয়েড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে বিমানটি। বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাত দেড়টার দিকে পৌঁছানোর কথা ছিল।
তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই বিমানটির গতিপথে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। প্রায় ২৪ হাজার ফুট বা ৭ হাজার ৩০০ মিটার উচ্চতায় থাকা উড়োজাহাজটি অল্প সময়ের মধ্যে নেমে আসে প্রায় ১১ হাজার ফুট বা ৩ হাজার ৩০০ মিটারে।
জরুরি বার্তাও দিয়েছিলেন পাইলট
বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় পাইলটের কণ্ঠস্বর অত্যন্ত দুর্বল শোনা যাচ্ছিল বলে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেডিও যোগাযোগের তথ্য থেকে জানা গেছে। একপর্যায়ে তিনি জরুরি পরিস্থিতির কথা জানান।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানে বড় ধরনের বৈদ্যুতিক সমস্যা দেখা দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর বেতার যোগাযোগের পাশাপাশি রাডারেও বিমানটির আর কোনো অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।
তবে ঠিক কী কারণে বিমানটি বিপদে পড়েছিল বা সেটি কোথায় নেমেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আকাশ ও সমুদ্রপথে চলছে উদ্ধার অভিযান
নিখোঁজ বিমান ও এর ছয় আরোহীর সন্ধানে নানটাকেটের উপকূলীয় সাগর এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মার্কিন কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে একাধিক উড়োজাহাজ ও নৌযান এই অনুসন্ধান কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে।
দিনভর আকাশ ও সমুদ্রপথে তল্লাশি অব্যাহত থাকলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিমানটির অবস্থান বা ছয় আরোহীর বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।