
আগামী ২৮ আগস্ট ঘটতে যাচ্ছে চলতি বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা—একটি গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ার কারণে এই গ্রহণের সৃষ্টি হয়।
উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশপ্রেমীরা এই আংশিক চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী হবেন। আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত থেকে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের মধ্যবর্তী সময়ে এ চন্দ্রগ্রহণ ঘটতে চলেছে। এ সময় পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের পৃষ্ঠের প্রায় ৯৬ শতাংশ ঢেকে যাবে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ১২ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ১২ মিনিটে) গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমেরিকা মহাদেশের অধিকাংশ এলাকা থেকে এই মহাজাগতিক ঘটনা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। অন্যদিকে ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অংশের পর্যবেক্ষকেরা শুধু সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সময় গ্রহণের আংশিক রূপ দেখতে পাবেন।
পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের মতো এবার পুরো চাঁদ ঢাকা পড়বে না। চাঁদের একটি ছোট অংশ পৃথিবীর গভীরতম ছায়ার বাইরেই থেকে যাবে। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো অতিক্রম করার সময় তা বিচ্ছুরিত ও প্রতিসরিত হওয়ায় গ্রহণকবলিত অংশ লালচে বা তামাটে বর্ণ ধারণ করতে পারে। এই দৃশ্যই ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত।
এই চন্দ্রগ্রহণটি পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হবে। যদিও গভীর আংশিক পর্যায়ের স্থায়িত্ব তুলনামূলকভাবে কম হবে। নাসা ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক সূত্রগুলোর মতে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে চাঁদের ব্যাসের প্রায় ৯৩ শতাংশ অংশ পৃথিবীর মূল ছায়ার ভেতরে অবস্থান করবে।
গত ১২ আগস্ট গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমান হওয়া একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণের দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় পর এই চন্দ্রগ্রহণ ঘটছে। মূলত সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই সরলরেখায় অবস্থান করার কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় সংঘটিত হয়।
সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখার সময় চোখের বিশেষ কোনো সুরক্ষার প্রয়োজন হয় না। সাধারণ বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করে দৃশ্যটি আরও কাছ থেকে উপভোগ করা সম্ভব।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি