
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিয়ের আশ্বাসে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, ধর্ষণ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান। এর আগে মঙ্গলবার রাতে সাদুল্লাপুর থানায় ওই চেয়ারম্যানসহ দুজনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার সুবাদে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষিকার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ওই শিক্ষিকা বিয়ের কথা বললে বিভিন্ন কৌশলে তা এড়িয়ে যান চেয়ারম্যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চেয়ারম্যানের এক সহযোগী গোপনে তাঁদের ছবি তুলে তা বিকৃত করার ভয় দেখিয়ে শিক্ষিকাকে ব্ল্যাকমেল করেন। এ ছাড়া বিয়ের খরচের কথা বলে শিক্ষিকার কাছ থেকে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকার দাবি, চেয়ারম্যানের বিয়ের আশ্বাসে তিনি তাঁর প্রথম সংসার ভেঙেছেন। ওই সংসারে তাঁর দুটি সন্তান রয়েছে। পরে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে প্রথমে থানায় অভিযোগ করেন। সেখানে মামলা গ্রহণ না করায় গত ১৬ আগস্ট আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি। আদালত শুনানি শেষে থানাকে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এদিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সংবাদ সম্মেলন করে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই চেয়ারম্যান। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান বলেন, ধর্ষণ ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে।