
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে টানা চার বছর ব্ল্যাকমেল করে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগে আবু মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে কিশোরী যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত, তখন তার এক নিকটাত্মীয় তাকে যৌন নির্যাতন করে কৌশলে ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, এ কাজে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত ছিল।
সম্প্রতি কিশোরী এসব কর্মকাণ্ডে আর যুক্ত হতে অস্বীকৃতি জানালে ধারণ করা সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে কিশোরী ও তার বাবাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল। শারীরিক ও মানসিক শোষণের শিকার কিশোরী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা হলেও গর্ভজাত সন্তানের দায় নিতে কেউ রাজি হচ্ছে না বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কিশোরীর বাবার করা মামলার ভিত্তিতে কেন্দুয়া থানা পুলিশ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কেন্দুয়া পৌরসভার সাউধপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে অভিযুক্ত আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভুক্তভোগীর শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা এবং ঘটনার স্পর্শকাতরতার কথা বিবেচনায় নিয়ে কিশোরীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকারকর্মীরা। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর ওপর এমন যৌন নিপীড়ন ও শোষণের সঙ্গে জড়িত সব অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, মামলা হওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে সাউধপাড়া এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।