
আত্মবিশ্বাসী শুরুর পর দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায় মরক্কো। সেই ধাক্কা সামলে নিয়ে পাল্টা জবাব দিতে খুব বেশি সময় নেয়নি ব্রাজিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি অসাধারণ গোল রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের গতি কমে আসে। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই পরাশক্তিকে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ রোববার (১৪ জুন) ভোরে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। ইসমায়েল সাইবারির গোলে মরক্কো প্রথমে এগিয়ে যাওয়ার পর ব্রাজিলের হয়ে দারুণ নৈপুণ্যে সমতা ফেরান পোস্টার বয় ভিনিসিউস জুনিয়র।
প্রথমার্ধে মরক্কোর দাপট, ভিনির সমতা
ফিফা র্যাংকিংয়ের ছয় ও সাত নম্বর দলের এই লড়াইয়ে দুই দলই রক্ষণ সামলে আক্রমণের কৌশল নেওয়ায় ম্যাচে খুব বেশি গতিময় ফুটবল দেখা যায়নি। তবে প্রথমার্ধে আক্রমণের দিক থেকে পরিষ্কার আধিপত্য ছিল মরক্কোর। ব্রাজিলের দ্বিগুণ, অর্থাৎ মোট ১২টি শট নেয় তারা।
ম্যাচের শুরুতে সেলেসাওরা কিছুটা এলোমেলো ফুটবল খেললেও মরক্কো ছিল বেশ গোছানো। দ্বাদশ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ভিনিসিউসের বাড়ানো নিখুঁত ক্রস গোলমুখে পেয়েও ঠিকমতো হেড করতে পারেননি ব্রাজিলের ইগোর থিয়াগো। এই মিসের খেসারত ব্রাজিলকে দিতে হয় ২১তম মিনিটে। চমৎকার এক প্রতি-আক্রমণে মাঝমাঠ থেকে হাওয়ায় ভাসানো নিখুঁত থ্রু পাস বাড়ান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াস। বলের গতি ঠিকমতো বুঝতে না পেরে ডি-বক্সের অনেকটাই বাইরে চলে আসেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন বেকার। সেই সুযোগে গতিতে দুই ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে দারুণ এক চিপ শটে বল জালে পাঠান ইসমায়েল সাইবারি। বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচেই জালের দেখা পেলেন পিএসভি আইন্দহোভেনের ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
তবে পিছিয়ে পড়ার মাত্র ১১ মিনিট পরই সমতায় ফেরে ব্রাজিল। ৩২তম মিনিটে ব্রুনো গিমারেসের ফিরতি পাস ধরে ডি-বক্সের ভেতরে বাঁ দিকে কাট করে একজন ডিফেন্ডারকে বোকা বানান ভিনিসিউস। এরপর জোরালো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ৫০তম ম্যাচে এটি ভিনির ১০ম এবং বিশ্বকাপে দ্বিতীয় গোল। বিরতির ঠিক দুই মিনিট আগে লুকাস পাকেতার একটি অ্যাক্রোবেটিক ভলি ঝাঁপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো।
প্রথমার্ধের তুলনায় ম্যাড়মেড়ে দ্বিতীয়ার্ধ
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি আরও কমে যায়। এই অর্ধে ষষ্ঠ স্থানে থাকা ব্রাজিল গোলমুখে ৭টি শট নিলেও মরক্কোর রক্ষণভাগকে তেমন কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। ৭৯তম মিনিটে দ্রুতগতির এক প্রতি-আক্রমণে সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন রাফিনহা। ভিনিসিউসের পাস থেকে ডি-বক্সে ফাঁকা অবস্থায় বল পেয়েও তিনি গোলরক্ষক বরাবর দুর্বল শট মেরে বসেন।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, যোগ করা ১০ মিনিটের মাথায় নাটকীয় জয় পেয়ে যেতে পারতো মরক্কো। প্রতিপক্ষের একটি শট ঝাঁপিয়ে ধরতে গিয়ে বল হাত ফস্কে ফেলেছিলেন আলিসন। ফিরতি বলে দ্রুত শট নেন নাইল এল আইনাউই। তবে চটজলদি হাত বাড়িয়ে নিজের ভুল শুধরে নিয়ে ব্রাজিলের নিশ্চিত পরাজয় রুখে দেন আলিসন।
এই ম্যাচের দুই গোলদাতা সাইবারি ও ভিনিসিউস জাতীয় দলের হয়ে যেসব ম্যাচে গোল করেছেন, সেসব ম্যাচে কখনও হারেনি তাদের দল। মেটলাইফ স্টেডিয়ামেও বজায় থাকল সেই রোমাঞ্চকর ধারা। আগামী শনিবার (২০ জুন) গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল, আর একই দিন ভোরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে মরক্কো।