
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্য নারী কমিশনের চেয়ারপারসনের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বিশিষ্ট লেখিকা ও পরিচালক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই মাস আগেই তার এই সরে দাঁড়ানো নিয়ে টালিপাড়া ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন।
ইস্তফার ঘোষণা ও বর্তমান পরিস্থিতি
মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি জানান, প্রায় দুই দিন আগেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য তার কাছে নেই। আজ বুধবার (১৩ মে) কমিশনের কার্যালয়ে একটি বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন তিনি, যেখানে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
কেন এই আকস্মিক প্রস্থান?
তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের পদত্যাগ ছিল অনেকটা প্রত্যাশিত। জুলাই মাসে এই পদে তার ৯ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন। জানা গেছে, বর্তমান সরকারের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী তথা উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের অধীনে কাজ চালিয়ে যাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।
রাহুলকাণ্ড ও টালিপাড়ার ক্ষোভ
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্যারিয়ারে বড়সড় ধাক্কা হয়ে আসে। এই ঘটনার পর টালিপাড়ার শিল্পী ও কলাকুশলীদের একটি বড় অংশ তার পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত লীনা কিছুদিন জনসমক্ষ থেকে দূরে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ইস্তফার পথই বেছে নিলেন। বর্তমানে রাহুলকাণ্ডের তদন্ত নতুন সরকারের অধীনে কতটুকু গতি পায়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
চিত্রনাট্যে ফেরার পথ কি প্রশস্ত?
বাঙালির ড্রয়িংরুমের জনপ্রিয় মেগা সিরিয়ালের এই কারিগর কি আবারও চিত্রনাট্য লেখায় ফিরবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি রহস্য জিইয়ে রেখে বলেন, ‘ফিরলে আপনারা জানতে পারবেন।’
তবে তার এই ফিরে আসা মোটেও সহজ হবে না। রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর জেরে তার প্রযোজনা সংস্থা 'ম্যাজিক মোমেন্টস'-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমনকি 'কনে দেখা আলো'র লেখিকার পদ থেকেও তাকে সরে যেতে হয়েছে। বর্তমানে অনেক কলাকুশলীই তার সঙ্গে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন।