
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা মডেল মসজিদে নারী অংশগ্রহণকারীদের একটি কর্মশালাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
শনিবার (১১ জুলাই) এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার পর থেকে ইজিবাইক ও মাইক্রোবাসে করে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী অংশগ্রহণকারীরা দামুড়হুদা মডেল মসজিদে আসতে শুরু করেন। যোহরের নামাজের সময় বিষয়টি মুসল্লিদের নজরে আসে। পরে স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি পুলিশ ও প্রশাসনকে অবহিত করেন। একপর্যায়ে মসজিদের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয় লোকজন প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভেতরে অবস্থানরত নারী অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদে বের করে দেয়।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি সম্পর্কে পুলিশকে আগে থেকে জানানো হয়নি। উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল কি না, সেটিও তাদের জানা নেই।
মডেল মসজিদের কেয়ারটেকার মো. শাহজাহান বলেন, স্থানীয় জামায়াতের নারী সদস্যরা নারী প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের কথা বলে এক দিনের জন্য তিন হাজার টাকায় মসজিদের একটি অংশ ভাড়া নেন। তবে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তিনি জানাননি।
দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মো. আবেদ উদ্ দৌলা রিটন বলেন, শনিবার দিনব্যাপী মহিলা জামায়াতের একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল হাসান তনু অভিযোগ করেন, সরকারি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে একটি রাজনৈতিক দলের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে যান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন বলেন, মডেল মসজিদের সভাপতি হিসেবে এ ধরনের আয়োজন সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়নি। কেন অনুমতি নেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে মসজিদের কেয়ারটেকারকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।