
দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চলতি বছরেই জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই কাউন্সিলের মাধ্যমেই দলটির গুরুত্বপূর্ণ মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে দলটির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই প্রস্তুতির কথা জানান এবং একইসাথে রাজনীতি থেকে নিজের অবসরের ঘোষণা দেন।
কাউন্সিল ও আগামীর পরিকল্পনা
মির্জা ফখরুল জানান, যদিও কাউন্সিলের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে ২০২৬ সালের মধ্যেই তা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূল কাউন্সিলের আগে তৃণমূল পর্যায়ের সম্মেলনগুলো শেষ করা হবে। ২০১৬ সালের পর আর কোনো কাউন্সিল না হওয়ায় দলে স্থবিরতা কাটাতে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘স্থায়ী কমিটি’তে বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে।
ক্লান্তি ও অবসরের ঘোষণা
টানা এক দশকেরও বেশি সময় দলের ক্রান্তিকালে হাল ধরে রাখা এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক এখন অনেকটা ক্লান্ত। বয়সের ভার ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আর স্বপদে থাকতে ইচ্ছুক নন। সাক্ষাৎকারে নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, "আমি খুবই ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। কাউন্সিলের পর অবসর নিতে চাই। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে। অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।"
রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা বা আকাঙ্ক্ষা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে উত্তর দেন। তিনি বলেন, "এ ধরনের প্রত্যাশা আমার কখনই ছিল না। আমি এ পর্যন্ত যেখানে এসেছি, সেটা আমার ভাগ্য নিয়ে এসেছে। আমার কাজটা ছিল, কিন্তু আমার আকাঙ্ক্ষা এখানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করি না।"
এক নজরে মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বেশ বর্ণাঢ্য। তার দীর্ঘ পথচলার কিছু উল্লেখযোগ্য মাইলফলক:
২০১৬-বর্তমান: পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন।
২০১১-২০১৬: টানা পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন।
২০০৯: পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত।
১৯৯২: ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি।
১৯৮৮: ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান (স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে)।
১৯৮৬: সরকারি চাকরি ত্যাগ করে সরাসরি রাজনীতিতে পদার্পণ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মির্জা ফখরুলের এই ঘোষণা বিএনপির ভেতরে নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে এবং পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে কে দায়িত্ব নেবেন, তা নিয়ে এখন দলের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।