
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় একটি ঘর থেকে স্বর্ণা আক্তার (২৪) নামের এক নারী ও তাঁর দুই শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর বালুপাড়া গ্রামের একটি শয়নকক্ষ থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নারীর গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহটি ঝুলছিল।
নিহত স্বর্ণা ওই গ্রামের মাহাতাব হোসেনের ছেলে শাকিল হোসেনের (২৮) স্ত্রী। তাঁদের দুই সন্তান সাফায়েত হোসেন (৪) ও রাইফা মনি (১)।
পারিবারিক কলহের কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শাকিল পেশায় ইজিবাইকচালক। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া, বাগ্বিতণ্ডা ও মারামারির ঘটনা ঘটত। রোববার সকালেও তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে শাকিল বাড়ি থেকে বের হয়ে বাজারে চলে যান।
সন্ধ্যায় স্বর্ণা দুই সন্তানকে নিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে শাকিলের মা দরজার সামনে গিয়ে তাঁদের ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে সাড়া না পেয়ে তিনি প্রতিবেশীদের খবর দেন। পরে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তিনজনের মরদেহ দেখতে পান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর আমিন শাহ জানান, পারিবারিক বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, ঘটনার আগে স্বর্ণা ঘরের দেয়ালে লিখে গেছেন, ‘আজ থেকে এই গল্প শেষ। আমি অভাগী মা। আমার সন্তানদের আমি নিজে মারছি। আমার সন্তানদের পুলিশের কাছে দিয়েন না। মা-বাবা সরি।’
তদন্তে নেমেছে পুলিশ, হেফাজতে স্বামী
চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক অশান্তির জেরে স্বর্ণা দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় স্বর্ণার স্বামী শাকিল হোসেনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।