
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘প্রয়াস’ নামে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে মো. ফোরকান (২৯) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ওই কেন্দ্রে ভর্তি করার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির স্টাফরা ফোরকানকে মারধর করে হত্যা করেছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ফোরকানের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত ‘প্রয়াস’ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. ফোরকান মিয়া জেলার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের মো. রশিদ মিয়ার ছেলে।
ফোরকান মিয়ার বড় ভাই মো. ইমন মিয়া জানান, তার ভাই কাতারপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক মাস আগে তিনি প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন। দেশে আসার কিছুদিন পর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। গত শুক্রবার ৭০ হাজার টাকা চুক্তিতে তিন মাসের জন্য ফোরকানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ‘প্রয়াস’ নামে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা পর্যায়ক্রমে দেওয়ার কথা ছিল।
এর মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রয়াস থেকে ফোন করে জানানো হয়, ফোরকান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ফোন পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে ফোরকানকে পাওয়া যায়নি।
পরে তারা প্রয়াস মাদক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে গিয়ে দেখতে পান, ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে একটি লাশবাহী গাড়িতে ফোরকানের মরদেহ রাখা রয়েছে। পুনর্বাসন কেন্দ্রটির কার্যালয়ে বাইরে থেকে তালা দিয়ে সবাই চলে গেছে। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ইমন মিয়া বলেন, ‘আমার ভাইকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রের লোকজন তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমরা শুনেছি এর আগেও এখানে নাকি এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।’
তবে প্রয়াস মাদক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক মো. রুবেল জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফোরকান বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুল হক রনি জানান, ফোরকানকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পর প্রয়াস কেন্দ্রের কয়েকজন রোগী আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।