
দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়সসীমা কমানোর জন্য তদবির করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, “এখন দেশে যেসব বড় রাজনৈতিক দল আছে, সেসব দলের বড় বড় নেতারা দিনরাত আর্জি করছেন, কীভাবে মেয়েদের বিয়ের বয়সসীমা আরও কমিয়ে আনা যায়। এ বিষয়ে তাঁদের চাওয়াটা যেন জ্ঞানভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে প্রকাশ পায়, সেটিও সরকারের দায়িত্ব। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগী, গণমাধ্যমকর্মীসহ উপস্থিত সবার দায়িত্ব জনগণকে সঠিক তথ্য দেওয়া এবং বিষয়টি সঠিকভাবে তুলে ধরা।”
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিয়ের বয়স নিয়ে ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগের লিখিত ইতিহাস থেকে আমরা জানি, মিসরে বিয়ের বয়স ছিল ২০ বছরের বেশি। আড়াই হাজার বছর আগে গ্রিসে গড় বিয়ের বয়স ছিল ৩০ বছরের মধ্যে। অথচ ২০২৬ সালে রোবটিক্সের যুগে এসে আমাদের দেশের রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হলো, বিয়ের বয়স কতটা কমিয়ে আনা যায়।”
নারীর টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শুধু পেশাগত প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানের সুযোগ যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, এর পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগদক্ষতা, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে পরিবারের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ, সামাজিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মেয়েদের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বাড়ানো গেলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে আরও সক্ষম হবে বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে পরিবারকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে আইনগত সুরক্ষা ও সচেতনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।