
যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা বয়ান’ আখ্যা দিয়ে এর সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটন এখনো ধরে নিচ্ছে যে বিশ্বের দেশগুলোর কোনো স্মৃতি বা নিজস্ব বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা নেই।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান বাঘাই। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সরলীকৃত ও ভণ্ডামিপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন।
বাঘাই বলেন, ওয়াশিংটন এমন আচরণ করছে যেন বিশ্বের মানুষ কোনো কিছু মনে রাখে না এবং কোনো বিষয় বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাও তাদের নেই। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র যেন প্রত্যাশা করছে সবাই চিন্তাভাবনা বন্ধ করে শুধু ওয়াশিংটনের বক্তব্যের দিকে তাকিয়ে থাকবে এবং কোনো প্রশ্ন ছাড়াই তা বিশ্বাস করবে।
ইরানি এই মুখপাত্র আরও বলেন, একদিকে ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে, অন্যদিকে নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি কর্মকর্তাদের কেনাকাটার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদের পাইকারি দোকানের সদস্যপদ ব্যবহার ও কিছু পণ্য কেনার ওপর বিধিনিষেধের কথা জানিয়েছে।
বাঘাইয়ের বক্তব্য, একটি দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকার ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর একই সময়ে দোকানের সদস্যপদ কার্ড নিয়ে বক্তব্য দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অসংগতি তুলে ধরে।
তিনি বলেন, পুরো একটি জাতির জীবিকার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকে স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, অথচ একটি দোকানের সদস্যপদ নিয়ে আলাদা করে বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, এ ধরনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নীতির সীমাবদ্ধতা ও অসংগতি প্রকাশ পাচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানি প্রতিনিধিদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও তাদের চলাচল ও কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।