
ইউক্রেন সীমান্ত সংলগ্ন পোল্যান্ডের লাবলিন অঞ্চলে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা রাশিয়ার নিখুঁত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণার কথা জানিয়েছে পোলিশ প্রশাসন। ইউক্রেন সীমান্তবর্তী ওই এলাকায় আকাশসীমা লঙ্ঘনের এই নজিরবিহীন ঘটনায় ইতোমধ্যে ইউরোপীয় রাজনীতির অঙ্গনে চরম আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানান, সীমানা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার ভেতরের এই বিস্ফোরণস্থলটিতে কমপক্ষে ১০ মিটার চওড়া একটি বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আলামত পর্যালোচনার ভিত্তিতে আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়ার তৈরি কেএইচ-১০১ ক্রুজ মিসাইল বলেই জোরালো অনুমান করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের সামনে ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, ‘বেশিরভাগ আলামত বিশ্লেষণ এবং উদ্ধার হওয়া টুকরোগুলো দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি রুশ কেএইচ-১০১ ক্ষেপণাস্ত্র।’
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরে লুবলিন অঞ্চলের টারনাওয়া কোলোনিয়া নামক এলাকার অধিবাসীরা আকস্মিক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠেন। তীব্র সেই ধামাকায় সংলগ্ন আবাসিক বাড়িঘরের জানালার কাচ প্রবলভাবে কেঁপে ওঠে। উল্লেখ্য, ঠিক ওই মুহূর্তে ইউক্রেনের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান ও মিসাইল হামলা পরিচালনা করছিল রুশ বাহিনী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা কড়া ভাষায় লিখেছেন, ‘গতরাতে রাশিয়ার একটি কেএইচ-১০১ ক্রুজ মিসাইল পোল্যান্ডের ভেতর দিয়ে উড়ে যায়। যা ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।’ একই সুর মিলিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তাও মন্তব্য করেছেন যে, ড্রোন ও মিসাইল আক্রমণের চরম পর্যায়ে মিত্রদেশ পোল্যান্ডের সার্বভৌম আকাশসীমা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।
তবে স্থানীয় পোলিশ পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, ক্রুজ মিসাইলটি একটি সম্পূর্ণ নির্জন ও জনমানবহীন খোলা মাঠে আছড়ে পড়েছিল। ফলে এত বড় দুর্ঘটনা সত্ত্বেও সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানি বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।