
সংস্কারের পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উঠবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গণভবন-কে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্তের পর নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণে উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সম্ভাব্য কয়েকটি স্থানও চিহ্নিত করা হয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে ড. ইউনূস যমুনা ছেড়ে দিলে সেটি সংস্কার করে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সংস্কারকাজ শেষ করতে এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে।
বিকল্প বাসভবন নিয়ে আলোচনা
গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের আবাসন নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন করেছিল। কমিটি সুপারিশও জমা দেয়। এর মধ্যে শেরেবাংলা নগরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এলাকার একটি স্থানকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। কমিটির মতে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন তুলনামূলকভাবে বেশি উপযোগী। বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকেও উত্থাপিত হয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই শতাধিক আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন—এমনটাই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওইদিন সাধারণ মানুষ গণভবনে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তর করে।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সংক্রান্ত আইন
‘দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স (রিমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫’ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি সরকারি বাসভবন নির্ধারিত থাকবে, যা সরকারের ব্যয়ে সজ্জিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। বাসভবনের আসবাব, অবকাঠামো, ইউটিলিটি বিল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে।
প্রধানমন্ত্রী যদি সরকারি বাসভবনে না থেকে নিজ বাসভবনে থাকেন, সেক্ষেত্রে মাসিক এক লাখ টাকা গৃহভাড়া ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার প্রয়োজনে অস্থায়ী গার্ডশেড নির্মাণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে আইনে। দায়িত্ব ছাড়ার পর এক মাস পর্যন্ত সরকারি বাসভবনে বিনা ভাড়ায় থাকার সুযোগও রয়েছে।