
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। নিজ মাতৃভূমিতে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে যুক্তরাজ্যের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়টি জানানো হয়।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে সংকটটির স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বিশেষ করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় যুক্তরাজ্যের ভূমিকা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী।
জবাবে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারবিষয়ক ‘পেনহোল্ডার’ হিসেবে যুক্তরাজ্য তার নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে রোহিঙ্গা সংকটকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতেও যুক্তরাজ্য কাজ করে যাবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে হুমায়ুন কবিরকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান সারাহ কুক। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া শিক্ষা, অভিবাসন ও মানুষের চলাচল, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। তিনি বলেন, গভীর জনসম্পৃক্ততা, প্রাণবন্ত অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার ভিত্তিতে যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ অংশীদারত্ব ‘ক্রমেই আরও শক্তিশালী হচ্ছে’।
তিনি বলেন, হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সহায়তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় উঠে এসেছে।
সারাহ কুক বলেন, আমাদের আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সহায়তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়সহ অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিস্তৃত অগ্রাধিকারগুলো উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে দুই দেশের জনগণের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রাণবন্ত সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতাকে এ অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার।
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করতে হুমায়ুন কবির ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান সারাহ কুক। দুই দেশের জনগণের জন্য এ অংশীদারত্বকে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান সুফলে পরিণত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী এবং আমি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি, যাতে আমাদের শক্তিশালী অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং উভয় দেশের জন্য বাস্তব সুফল নিশ্চিত করা যায়।