
শেরপুরে এক বোরকা পড়া নারী যাত্রীর স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। এ সময় উত্তেজিত জনতা দু’জনকেই গাছের সাথে বেঁধে গণপিটুনি দেয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল শেরপুর পৌর শহরের তাতালপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন- পৌর এলাকার চাপাতলি মহল্লার সবিহর মিয়ার ছেলে মনির এবং নুরুজ্জামানের ছেলে মমিন।
স্থানীয়রা জানান, বিকেলে শহরের খোয়ারপাড় শাপলা চত্বর মোড় থেকে তাতালপুর বাজারের উদ্দেশ্যে বোরকা পরা এক নারী যাত্রীকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তোলা হয়। এসময় অটোরিকশাটি চালাচ্ছিলেন মনির। পরে খোয়ারপাড় ও তাতালপুরের মাঝামাঝি এলাকা থেকে মমিনকে যাত্রী হিসেবে অটোরিকশায় তোলা হয়। কিছুদূর যাওয়ার পর নির্জন স্থানে মমিন ওই নারীর শরীরে ‘লাল পিঁপড়া উঠেছে’ বলে জানায়। পিঁপড়া ছাড়ানোর কথা বলে সে নারীর নাক-কানে হাত দিয়ে স্বর্ণালংকার আছে কি না পরীক্ষা করে। পরে আরও কিছুদূর গিয়ে নির্জন স্থানে অটোরিকশা থামিয়ে মনির ও মমিন ওই নারীর গলা, নাক ও কান থেকে স্বর্ণের চেইন, নাকফুল ও কানের দুল ছিনিয়ে নেয়। বিষয়টি দুটি মোটরসাইকেল আরোহী যুবকের নজরে পড়ে।
পরে ছিনতাইকারীরা নারীকে সড়কে নামিয়ে অটোরিকশা নিয়ে চলে গেলে ওই দুই যুবক তার কাছে গিয়ে কী ঘটেছে জানতে চান। নারী ঘটনাটি খুলে বললে তারা দ্রুত মোটরসাইকেলে ছিনতাইকারীদের পিছু নেন। একপর্যায়ে তারা দু’জনকে অটোরিকশাসহ আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের কাছ থেকে ওই নারীর খোয়া যাওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাটি তাতালপুর বাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা জড়ো হয়ে ওই দুই ছিনতাইকারীকে গাছের সাথে বেঁধে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ভুক্তভোগী ওই নারীর বাড়ি তাতালপুরের আশপাশে বলে জানা গেছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে থানায় আনা হয়েছে। কী ঘটেছে, তা বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।