দেশের রুগ্ন ও বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্পখাত পুনরুজ্জীবন, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার একটি সমন্বিত ও আধুনিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় ৫০টি বন্ধ ও রুগ্ন মিল পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকদের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলার বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন শিল্পাঞ্চল গঠন, বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালু এবং ডিস্টিলারি স্থাপনের মাধ্যমে রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধির মতো প্রস্তাব এসেছে, যা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।
বাজার ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত মূল্য ব্যবধান কমাতে এআইভিত্তিক সাপ্লাই চেইন মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে আমদানি, মজুদ, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানি নির্ভর পণ্যের জন্য স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ গড়ে তোলা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এতে বৈশ্বিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও দেশের বাজারে পণ্যের ঘাটতি ও মূল্য অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা থাকবেন। এর মাধ্যমে টিসিবির কার্যক্রম আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করা হবে।
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মসজিদ-মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে, যাতে কোনো চামড়া নষ্ট না হয়। পাশাপাশি কোরবানির পর সাত দিন চামড়া পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাও নজরদারিতে রাখা হবে।
ব্রিফিংয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, শিল্প সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং বস্ত্র ও পাট সচিব উপস্থিত ছিলেন।